ঘুষ না দেওয়ায় মেলেনি জমি অধিগ্রহণের টাকা

বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘুষ না দেওয়ায় মেলেনি জমি অধিগ্রহণের টাকা

বগুড়ার শেরপুরে সাসেক (সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কোঅপারেশন) প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষতিপূরণ না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আবুল হোসেন নামে এক দরিদ্র অটোরিকশাচালক। অভিযোগ রয়েছে, ১৬ লাখ টাকা ঘুষ দিতে না পারায় তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যোগসাজশ করে তাঁর পাওনা টাকা অন্য একজনকে পাইয়ে দিয়েছেন।

উপজেলার ছোনকা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের সংসার চলে টেনেটুনে। ২০১৯ সাল থেকে নিজের ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে সরকারি দপ্তরের দরজায় দরজায় ঘুরছেন তিনি। তিনি জানান, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১৯ দশমিক ৫ শতক জমির বিপরীতে তাঁর পাওয়ার কথা ছিল ৩১ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৯ টাকা। কিন্তু তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও তাঁর পেশকার ১৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সহায়-সম্বল বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা দিতে চাইলেও মন গলেনি কর্মকর্তাদের। ফলে আজও এক টাকাও পাননি তিনি।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ছোনকা মৌজায় আবুল হোসেনের দাদার মোট জমি ছিল ৪৩ শতক। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে ১৬ শতক জমি বিক্রি করা হয়। বাকি জমির মধ্যে আবুল হোসেনের পাওনা ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতক। তবে জালিয়াতির সূত্রপাত হয় ১৯৯২ সালে। সবের শেখ নামে এক ব্যক্তি তাঁর নামে বরাদ্দ নেই এমন ৪০ শতক জমি নিজের সন্তানকে ‘হেবা’ দলিল করে দেন। সেই জমিটিই হাতবদল হয়ে সর্বশেষ তন্ময় কুমার বর্মণ নামে এক ব্যক্তি কিনে নেন।

বগুড়ার বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পি এম ইমরুল কায়েস জানান, বিষয়টি যেহেতু বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে বিচারাধীন, তাই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে তারা প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এই বিভাগের আরো খবর